মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

একাত্তরের ২৭ মার্চে ট্রেজারির অস্ত্র দিয়েই হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ শুরু

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২
  • ১৯৩ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:-মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মানিক চৌধুরী পাঠাগারে একাত্তরের ‘২৭ মার্চ অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । রবিবার (২৭মার্চ) দুপুরে মানিক চৌধুরী পাঠাগারে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
পাঠাগারের সভাপতি ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এতে মূল বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জে একাত্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মুহাম্মদ শাহাজান। আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজি গোলাম মর্তুজা ও লেখক-গবেষক সায়দুর রহমান তালুকদার প্রমুখ ।

সভার বক্তাগন বলেন, হবিগঞ্জ মহকুমা ট্রেজারির অস্ত্র দিয়েই আমরা মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলাম। । ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার বার্তাটি হবিগঞ্জ মহকুমায় আওয়ামী লীগ নেতা ও গণপরিষদের নির্বাচিত সদস্য কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী’র হাতে পৌঁছায় ।

২৭ মার্চ হবিগঞ্জ মহকুমায় এক অভূতপূর্ব ঘটনার উদয় হয়। মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরতে আনসার মুজাহিদসহ সকল শ্রেণি পেশার হাজার হাজার মানুষ অস্ত্রের জন্য হবিগঞ্জ মহকুমায় রাস্তায় নেমে পড়েন। সেদিন মেজর জেনারেল এম এ রবের নেতৃত্বে হবিগঞ্জের আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনুরোধে হবিগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক আকবর আলী খান অস্ত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান ।

এমতাবস্থায় কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী অস্ত্রের মুখে তাকে হবিগঞ্জ মহকুমার ট্রেজারি হতে অস্ত্র বের করতে বাধ্য করেন । অতঃপর মানিক চৌধুরীর স্বাক্ষরে ২৭ মার্চ অস্ত্র বের করা হয়। এই অস্ত্র দিয়েই পরবর্তীতে শেরপুর সাদীপুর রক্তাক্ত রণ যুদ্ধের সূচনা হয়।

এই প্রসঙ্গে ১৯৭২ সালের দৈনিক যুগভেরীতে ’মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের অবদান’ শিরোনামে প্রকাশিত কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে ৫৫০ টি (৩০৩ রাইফেল) এবং ২২০০০ রাউন্ড গুলি নিয়ে মুক্তিফৌজ গঠনের তথ্য পাওয়া যায়।

হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক তথ্যের তাগিদের কথা উল্লেখ করে বক্তাগণ বলেন, এই বিষয়ে হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দায়িত্ব নিলে জাতি সেটা চিরদিন মনে রাখবে। অনুষ্ঠানটিতে কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী কন্যা, মানিক চৌধুরী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কেয়া চৌধুরীর সহ আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান মাসুদ, মৃণাল কান্তি রায় সৈয়দ জাহির, সিদ্দিকী হারুন ।

সভা শেষে ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com