সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

হবিগঞ্জে নৌকার বিজয়: যুবনেতা থেকে পৌরপিতা সেলিম

নুর উদ্দিন সুমন, বার্তা সম্পাদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৮ বার পঠিত

নুর উদ্দিন সুমন : পঞ্চম ধাপে হবিগঞ্জের পৌরসভা নির্বাচনে দুই হাজার ৩৩২ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান সেলিম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৩,৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ ১০,৯৯০ ভোট। বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট এনামুল হক সেলিম ধানের শীষ নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪২ ভোট । ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সামছুল হুদা হাতপাখা প্রতীকে ৮৭৮ভোট। বশিরুল আলম কাউছার মোবাইল ফোন প্রতীকে ২৩৬ ভোট। গাজী পারভেজ হাসান জগ প্রতীকে ২৪৮ ভোট পেয়েছেন । এর মধ্যে ২৯০০৬ ভোট কাস্ট হয়। বাতিল হয় ৯০ ভোট। ২৪টি কেন্দ্রে ৯ টি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পৌরসভার নির্বাচনের সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। শহরতলি ও পৌরসভার বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে সকাল থেকেই নারী ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অবশ্য প্রথম দেড় ঘণ্টায় শহরের কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। ভোটের সার্বিক পরিবেশে সন্তুষ্ট প্রার্থীরাও।

ভোটাররা বলছেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর অন্য কোনো ভোটে এমন সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশ দেখেননি তাঁরা। কেউ কেউ এই ভোটকে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের ‘আস্থা’ ফেরানোর ভোটও বলে মন্তব্য করেছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের উমেদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছিল পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ সারি। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উম্মেদনগর শাহজালাল সুন্নিয়া একাডেমি ২ নং কেন্দ্রে নারী ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এখানে ইভিএমে ভোট গ্রহণে ধীরগতির কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেন ভোটাররা। নারী ভোটারের রেকর্ড উপস্থিতির চিত্র ছিল ২ নং কেন্দ্রেও।

হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকে নারী ও পুরুষ ভোটারের ঢল নামে। এখানে ভোট দিতে আসা ভোটার রশিদ মিয়া ও খাইরুন বেগম জানান, প্রায় এক যুগ পর মনে হচ্ছে সত্যিকারের ভোট দিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এমন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ অন্য কোনো নির্বাচনে দেখেননি।

দুপুরবেলা বিকেজেসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ছিল অনেকটা ভোটারশূন্য। ভোটসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখানে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বাড়েছে বলে জানান এখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

আওয়ামী লীগ–সমর্থিত নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ভোটের সার্বিক পরিবেশ দেখে খুশি তিনি। বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে। ফলাফল যাই হয় মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।

উল্লেখ্য , ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার নির্বাচন কমিশনের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজার ৯শ ৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬শ ২০। এখানে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত পৌরসভার দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী এবার নির্বাচিত হয়েছেন ৩২তম পৌর পিতা নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান সেলিম। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম জানান, সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) শান্তিপূর্ণভাবে চলে ভোটগ্রহন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ১শত ২০ সদস্যের ৬ প্লাটুন ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি), র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)-এর ৪টি টিমসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য। এছাড়াও দায়িত্বে পালনন করেন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দিকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম বিজয়ের খবর জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়লে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির এমপি’র বাসভবন ও জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা নৌকার শ্লোগানে মুখরিত করেন আশপাশ এলাকা ।

এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট মো: আবু জাহির এমপি বলেন, এবিজয় প্রমাণ করে আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নৌকাকে ভালবাসেন। এ বিজয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিজয় আপনাদের সবার। সবাই একযোগে কাজ করলে দল শক্তিশালী হবে। আর দল শক্তিশালী হলে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী হবে। আমাদের জননেত্রীর হাত শক্তিশালী হলে দেশের উন্নয়ন হবে। আমারা জেলাবাসী এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছি। পরিশেষে তিনি আওয়ামীলীগের অংঙ্গসংগঠনের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন শেখ সেলিমের ছেলে শেখ নাইম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগির চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুলইসলামসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীসহ অংঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বিজয়ী হওয়ার পর নেতাকর্মী সমর্থকরা আবেগ আপ্লুত হয়ে আনন্দে বিজয়ী প্রার্থীকে জড়িয়ে একে অপরে কাঁদতে দেখাগেছে।

বিজয়ী আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম আলম বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রোডম্যাপ করে পৌরসভার উন্নয়ন করা হবে। যে কোনো জয় মানুষের কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। নির্বাচনী মাঠে অনেক প্রার্থীর মিথ্যাচারের জবাব উন্নয়নের মাধ্যমে দেব। জেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে বেসরকারি ফলাফলের শিট হাতে পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। গণতন্ত্রের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এ বিজয় ন্যায় ও সত্যের। হবিগঞ্জ পৌরবাসী উন্নয়ন চায়। হবিগঞ্জবাসী অত্যন্ত সচেতন। পৌরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে সবকিছুই করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com