সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

বানিয়াচঙ্গের দর্শণীয় স্থানগুলোকে পর্যটনের আওতায় নিয়ে আসা হবে- প্রতিমন্ত্রী এড: মাহবুব আলী

নুর উদ্দিন সুমন, বার্তা সম্পাদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩০৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ বানিয়াচংয়ের সাগরদীঘিসহ দর্শণীয় স্থানগুলোকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে পর্যটনে রূপ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি। গতকাল ঐতিহ্যবাহী বিথঙ্গল আখড়ার ভক্ত নিবাসের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি বানিয়াচং সাগরদিঘী পরিদর্শন করেন। পরে রাত সাড়ে ৭টায় বানিয়াচং উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ডে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা প্রদান করেন। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহ জাহান মিয়ার পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামন্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম), উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার, উপজেলা আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তজ্জুমূল হক চৌধুরী, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সাম্পাদক বিপূল ভূষণ রায় প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে মেগা প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পরিবহন থাকবে। যাতে বাইরে থেকে মানুষ এসে এখানে সহজে যাতায়াত করতে পারে। বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে এ বিভাগের মানুষ সরাসরি ফ্লাইটে বিদেশে যাতায়াত করতে পারবেন। আগামী এপ্রিল থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ইংল্যান্ড-আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু হবে। এ জন্য বিমানবন্দরটিকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে। মাহবুব আলী আরও বলেন, হবিগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে থাকার জন্য সুব্যবস্থা করা হবে। যাতে পর্যটকরা নিরাপদে থাকতে পারেন। বানিয়াচং সদরে আসার পূর্বে তিনি বিথঙ্গল আখড়ায় এক আলোচনা সভায় মিলিত হন এবং বিথঙ্গল আখড়ায় ভক্ত নিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আখড়ার প্রধান সুকুমার মোহন্তর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শংকর পালের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মজিদ খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রামচন্দ্র দাশ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম, বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ মহারাজ, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ উদয় গৌর ব্রহ্মচারী প্রমুখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। এটা কোন সভ্য মানুষের কাজ নয়, একই সমাজে আমরা একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ন পরিবেশে থাকবো। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় বানিয়াচঙ্গে বিদেশী পর্যটক এসে যদি আমাদের নোংরা পরিবেশ দেখে তাহলে কোনদিনও আর এসব পর্যটক এখানে আসবে না। পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে একটি সুশৃংখল বানিয়াচং গড়ে তুলতে হবে। দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সকল প্রকার অপরাধ প্রবনতা থেকে সবাইকে মুক্ত থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, বানিয়াচং নামটাই হচ্ছে একটি পর্যটন কেন্দ্রীক নাম, বানিয়াচংয়ের চারপাশে রয়েছে নয়াভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য, যা দেখলে প্রাণ জুড়ে যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-পিপিএম) বলেন, আগের হবিগঞ্জ আর বর্তমান হবিগঞ্জ এর মাঝে অনেক তফাত রয়েছে। এক সময় হবিগঞ্জ নাম বলতে গেলে আগে বলতে হত সিলেট হবিগঞ্জ, এখন আর সেই সময় নেই এখন আপনারা গর্ব করে বলতে পারেন আমার বাড়ী হবিগঞ্জ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর হবিগঞ্জ জেলা। শিল্প কারখানাসহ অনেক সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে আমাদের এখানে। তবে এত সব গর্বের মধ্যে একটি দুঃখ আছে হবিগঞ্জবাসীর তা হলো, গ্রাম্য দাঙ্গা। কথায় কথায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য দাঙ্গায় লিপ্ত হয় এখানকার মানুষ। যা খুবই পীড়া দায়ক। এ দাঙ্গা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। পরস্পরের সাথে মিলেমিশে চলতে হবে। গ্রাম্য দাঙ্গাকে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে। যেখানে এসব অপরাধ দেখা দিবে সাথে সাথে পুলিশকে জানালে, পুলিশ তড়িৎ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবে। সকাল ১১টায় উপজেলা চত্তর থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বানিয়াচং থানার ওসি তদন্ত প্রজিত কুমার দাশ ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ও আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাষ্টারের নেতৃত্বে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা চত্তরে গিয়ে শেষ হয়। উক্ত র‌্যালীতে থানা পুলিশের বিপুল পরিমান সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী ও শিক্ষার্থীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com