রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ॥ ফজলুর রহমান চৌধুরী সভাপতি মঈন চৌধুরী সোহেল সম্পাদক নির্বাচিত হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ তদারকিতে খাদ্য বিভাগ হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের বানবাসীদের মাঝে এফএন ফাউন্ডেশন ইউকে’র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ পানি সংকটে সাতছড়ির বন্যপ্রাণী, জলাধার পুনঃখননের তাগিদ দিলেন চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম চুনারুঘাটে ধর্ষণ মামলার আসামি কাউসার গ্রেপ্তার চুনারুঘাটের মেয়ে দীপ্তিতা দাশ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির পৃথক দুটি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ০২ জন আসামীসহ মনিপুরি থামি কাপড়, ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ও মদ আটক* প্রাইভেটকারে মাদক বহন, ১৪০ কেজি গাঁজাসহ ০২ মাদক কারবারী গ্রেফতার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও দণ্ড প্রদান চুনারুঘাটে যৌথ অভিযানে ৭ অবৈধ করাতকল সিলগালা

পানি সংকটে সাতছড়ির বন্যপ্রাণী, জলাধার পুনঃখননের তাগিদ দিলেন চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণীর পানির সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে জলাধার ও পুকুর পুনঃখননের তাগিদ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। বন বিভাগ চাইলে বন্যপ্রাণীর জন্য পুকুর খনন ও পানির সুব্যবস্থায় নিজস্ব অর্থায়নে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে সঙ্গে নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে যান চীফ প্রসিকিউটর। এ সময় সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেনসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে জাতীয় উদ্যানের ভেতরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধারে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘বড় পুকুর’সহ প্রধান জলাধারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণীর পানির সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় পরিবেশবাদীদের তথ্যমতে, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের তিনটি প্রধান জলাধারের মধ্যে দুটি পাহাড়ি বালু ও পলিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে এবং অন্যটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বনের ভেতরে পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেলে উল্লুক, চশমাধারী হনুমান, হরিণ ও মেছোবাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পানির সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এতে বন্যপ্রাণীর জীবন যেমন ঝুঁকির মুখে পড়বে, তেমনি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া জলাধারগুলো সাতছড়ি বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জলাশয় বনের আর্দ্রতা বা মাইক্রোক্লাইমেট ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাঙ, কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও কাজ করে।

পরিদর্শন শেষে চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত জলাধারগুলো দ্রুত পুনঃখনন ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পুকুরগুলোর গভীরতা বাড়ানো, পাড় মজবুত করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

প্রয়োজনে গভীর নলকূপ স্থাপন কিংবা টেকসই কৃত্রিম জলাধার তৈরির কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল ও বালুর স্রোতে জলাধার ভরাট ঠেকাতে কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণ, রাবার ড্যাম বা গাইড ব্লক স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।

আসন্ন শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাধারগুলোর খনন ও সংস্কারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান চীফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, সাতছড়ির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। বন বিভাগ চাইলে বন্যপ্রাণীর জন্য পুকুর খনন ও পানির সুব্যবস্থা নিজস্ব অর্থায়নে করব। এছাড়াও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের উন্নয়ন কর্মাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com