স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম ধারক, ধামাইল গানের সংগ্রাহক, সংরক্ষক ও লেখক রামকৃষ্ণ সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ‘ধামালি চুনারুঘাট’ সংগঠনের সভাপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধামাইল গানের নিবেদিতপ্রাণ সাধক রামকৃষ্ণ সরকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর দিন সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহারের নেতৃত্বে সিলেটের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘ধামালি চুনারুঘাট’-এর পক্ষ থেকে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় সংগঠনের তিনজন জনপ্রিয় ধামাইল শিল্পী দিতি দাস, জোবায়েদ জুয়েল ও প্রীতি দাস উপস্থিত ছিলেন।
শোকবার্তায় অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার বলেন, “ধামাইলের প্রতি রামকৃষ্ণ সরকারের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও নিবেদন আমাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণ এই অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ধামালি চুনারুঘাট পরিবার তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
রামকৃষ্ণ সরকার ১৯৭১ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি আছিদউল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রেখে দিতে বাধ্য হন। তবে লোকসংগীত, বিশেষ করে ধামাইল গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও অনুরাগ আজীবন অটুট ছিল।
জীবিকার তাগিদে তিনি শ্রীমঙ্গলের আব্দুস শহীদ কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি লোকসংস্কৃতি রক্ষা ও চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন নিরলসভাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ধামাইল একাডেমি’, যা শ্রীমঙ্গলের প্রথম ধামাইলভিত্তিক সংগঠন হিসেবে এই লোকশিল্পের প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সিলেটি ধামাইল গীত’ গ্রন্থটি ধামাইল ঐতিহ্যকে পুস্তকাকারে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি মাল্টিপল মায়লোমা (এমএম) নামক জটিল রোগে ভুগছিলেন।
লোকসংস্কৃতির এই নিরলস সাধকের মৃত্যুতে সিলেট অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
Leave a Reply