সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে ভারী যানবাহন দেশ স্বাধীন হলেও গোলগাঁও বাসী এখনও পরাধীন সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা আতঙ্কে \ পাহাড়ী ঢলে ধ্বসে পড়ছে টিলা বাহুবলে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ মাধবপুরে বাস চাপায় শিশুর মৃত্যু চুনারুঘাটে ৬ বছরের ব্যবধানে দুই ভাইকে হত্যা ॥ গ্রেপ্তার ৩ ঈদ উল আযহা উপলক্ষে পৌর এলাকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান বানিয়াচং হাসপাতালে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন চুনারুঘাটে চেয়ারম্যান পদে সৈয়দ লিয়াকত হাসানের চমক ॥ কাইয়ূম ও খাইরুন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ

বিসিএস জটে অপেক্ষা বাড়ছে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৩৫৮ বার পঠিত
 কয়েক বছর ধরে ব্যাপকসংখ্যক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা বাছাইয়ের বাড়তি চাপ বহন করে আসা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) প্রথম শ্রেণির ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়ায় জট সৃষ্টি হয়েছে। পিএসসিতে চারটি বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে কোনোটি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে, কোনোটির প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সামনে রয়েছে। চারটি বিসিএসে এখন মোট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮২ প্রার্থী অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

পিএসসির প্রতি বছর একটি বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৩৬ থেকে ৪৮ মাস লেগে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় হতাশ শিক্ষিত বেকার ও তাদের পরিবার।

২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৭তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করে পিএসসি। পরীক্ষা শেষে এতে ১ হাজার ৩১৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে গত মাসে নিয়োগের সুপারিশের পর তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়েও দীর্ঘ সময় লাগছে। ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা কেবল শেষ হয়েছে; আগামী এপ্রিলে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে পিএসসি। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে আগামী মে নাগাদ। এ ছাড়া ৩৬তম বিসিএসের কিছু নন-ক্যাডার পদে এখনো নিয়োগ ঝুলছে।

পিএসসির কর্মকর্তারা জানান, পিএসসির অধীনে বিসিএস উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনস্থ অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর নিজেরা নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ করত। কিন্তু এখন শুধু প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার নয়, দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডারদেরও বাছাই করছে পিএসসি। পিএসসিকে শুধু বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডার-বঞ্চিতদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে অনেক কাজ করতে হয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডারে শূন্য পদের সংখ্যা জানার জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পিএসসিকে ধরনা দিতে হয়। সংখ্যা পাওয়ার পর পিএসসি প্রথম দফায় প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে। এটা শেষ হলে দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে মূল বিসিএস আয়োজন পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ সব কাজের জন্য একটিই কমিশন। একাধিক কমিশন গঠন করে পিএসসির দায় কমানো না হলে দিন দিনই জটিলতা বাড়বে। কিন্তু নন-ক্যাডারদের তথ্য পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পিএসসিকে। কারণ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে জনবল নিয়োগে পিএসসিকে সহায়তা করে না।

তারা জানান, এখন নন-ক্যাডার মোট পদের ৫০ শতাংশ বিসিএসে উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারবঞ্চিতদের দিয়ে পূরণ করা হয়। বাকি ৫০ ভাগ অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর তাদের ‘ফিডার কোটা’ থেকে নিয়োগ দেয়। অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলো পিএসসিকে শূন্য পদের তালিকা দিতে গড়িমসি করে। ঘুষ নেওয়ার লোভে বিধি-প্রবিধির দোহাই দিয়ে এসব পদে নিজেরা জনবল নিয়োগ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ আছে।

তা ছাড়া গত ১০ বছরে চাকরির গ্রেড বদল হয়েছে প্রায় দুই ডজন পদের। পুলিশের সহকারী পরিদর্শক পদকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির করার পর এ পদের নিয়োগ-পদোন্নতির সব সুপারিশ পিএসসিকে করতে হচ্ছে। পুলিশের সহকারী পরিদর্শকের মতো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার গ্রেড বদল হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার, ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর, মবিলাইজিং অফিসার ও জুনিয়র প্রশিক্ষকের গ্রেড বদল হয়েছে। প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদটি ছিল চতুর্দশ গ্রেডের পদ। সেটা বর্তমানে দ্বাদশ গ্রেডের পদ। এসব পদের গ্রেড বদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিএসসির কাজ বহু গুণ বেড়েছে।এ ছাড়া আগের বিসিএসগুলোতে একজন চাকরিপ্রার্থীর খাতা কেবল একজন পরীক্ষকই দেখতেন। এখন সব খাতাই দুজন পরীক্ষক দেখেন। দুজনের মধ্যে ৩০ নম্বরের বেশি পার্থক্য হলেই তা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায়ও সময় বেশি লাগবে। শিক্ষক নিয়োগ ত্বরান্বিত করার জন্য চার মাস আগে পিএসসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি লেখে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আজও সেই নিয়োগের কোনো কাঠামো দাঁড়ায়নি।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোয়ালিটি জিনিস পেতে হলে একটু সময় দিতেই হবে। আমরা আরও কম সময়ে বিসিএস আয়োজন করতে পারি। কিন্তু তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি থাকে, দায়সারা গোছের খাতা দেখতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ও হবে নিয়ম রক্ষার। আমি মনে করি, সব দিক রক্ষা করেই বিসিএস আয়োজন করা উচিত। এর জন্য একটু সময় লাগলেও তা দিতে হবে। আর নন-ক্যাডার নিয়োগ পিএসসির কাজ না হলেও এর মাধ্যমে জাতির বিরাট উপকার হচ্ছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সব প্রার্থীর তথ্য যাচাই প্রতিবেদন ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন তাদের হাতে পৌঁছায়নি। মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব তথ্য সংগ্রহ করার পরই চূড়ান্ত নিয়োগ দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর একই বিসিএসে ৩ হাজার ৪৫৪ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে নন-ক্যাডারদের নিয়োগ করা হবে। আগামী মার্চ মাসে নন-ক্যাডার নিয়োগের ফল প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে পিএসসি। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাইরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদেও নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে পিএসসি। এ পদটি ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় শ্রেণির করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও পদটি দ্বাদশ গ্রেডের হওয়ায় তাতে নিয়োগ পেতে আপত্তি রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের।

২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৭তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করে পিএসসি। পরীক্ষা শেষে এতে ১ হাজার ৩১৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে গত মাসে নিয়োগের সুপারিশের পর তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার ফল এপ্রিলে প্রকাশ হতে পারে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ২৪ জন বিভিন্ন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

৩৯ তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন ও ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ করা হবে। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ বিসিএসের ফল প্রকাশ করা হয়। এখন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আগামী এপ্রিল মাসে ৪০তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ করা হবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নন-ক্যাডারদের বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ফলাফল হয়তো ভালো। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় নন-ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়ার কাজ পিএসসির নয়। যার কাজ তাকেই করতে দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সেখানে সংস্কার আনা যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক পদ আপগ্রেড করা হয়েছে। এ কারণেও পিএসসিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রার্থী বাছাই করতে হচ্ছে। অথচ পিএসসির কাঠামো কিন্তু প্রায় আগের মতোই আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার কাজ পিএসসির নয়। এসব নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে গিয়ে পিএসসির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পিএসসির ওপর থেকে চাপ কমানো উচিত।’

 সুত্র: দেশ রূপান্তর

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com