শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০১:২৩ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জে বাসের টিকিট ও কল লিস্টের সূত্র ধরে হত্যাকারি প্রতারক প্রেমিক গ্রেফতার

নুর উদ্দিন সুমন, বার্তা সম্পাদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩৫২ বার পঠিত
আটক প্রেমিক

নুর উদ্দিন সুমন: হবিগঞ্জের সদর উপজেলার রাজিউড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর আকলিমা হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বাসের টিকিট ও কল লিস্টের সূত্র ধরে উচাইল গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদর মডেল থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী ও ওসি অপারেশন দৌস মোহাম্মদসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকারি প্রতারক প্রেমিক আনোয়ার হোসেন ওরফে সোবান মিয়া(২৮)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হকের আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

আটক প্রেমিক   ও         আকলিমার মৃতদেহ 

সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী আসামীর বরাত দিয়ে জানান- মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্ধুর খান ইউনিয়নের জাম্বুরাছড়া গ্রামের হেলাল মিয়ার মেয়ে আকলিমা আক্তার (২৫) প্রায় এক বছর আগে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে ৫ বছরের এক ছেলে সন্তানসহ পিত্রালয়ে অবস্থান করে। আকলিমা আক্তার এর সাথে প্রায় ১ বছর ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘাতক আনোয়ার হোসেন এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন সময় দেখা-স্বাক্ষাত করে। এরই মধ্যে আকলিমা গার্মেন্টে কাজ নিয়ে ঢাকায় তার খালার বাসায় অবস্থান করে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ৮টায় খালার বাসা থেকে আনোয়ারের কথা মতো শায়েস্তাগঞ্জের ওলিপুরে আসে আকলিমা। সেখান থেকে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় আনোয়ার। পরে জানাজানি হয় উভয়ই বিবাহিত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমলিন্য দেখা দেয়। আকলিমা আক্তার ঘাতক আনোয়ারের গ্রামের লোকজনের নিকট বিচার প্রার্থী হওয়ার কথা বলিলে উক্ত আসামী আকলিমা আক্তারকে কৌশলে গ্রামের নিকট হাওরে নিয়ে ওড়না দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। গত ২৫ ডিসেম্বর লাশ উদ্ধারের পরদিন সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরে আকলিমার ভাই আমীর হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আকলিমার শরীর থেকে পাওয়া এনা পরিবহণের টিকিট ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আনোয়ারকে আটক করা হয়েছে। ঘাতক আনোয়ার হোসেন তাহার অপরাধে অনুতপ্ত হয়ে বিজ্ঞ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। এই হত্যাকান্ডের ফলে এলাকায় জনসাধারণ মধ্যে আতংক বিরাজ করছিলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com