স্টাফ রিপোর্টার : সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধীনস্থ তেলিয়াপাড়া ও সিন্দুরখান বিওপির টহলদল কর্তৃক গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিনটি চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহে ২০ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২৬ বোতল ভারতীয় মদ, ০৪ বোতল ভারতীয় বিয়ার এবং ৬০০ প্যাকেট বাংলাদেশি মশার কয়েল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানের আনুমানিক সিজার মূল্য সর্বমোট ১,৫৮,০০০/- (এক লক্ষ আটান্ন হাজার) টাকা।
*বিজিবি’র সূত্রে জানা যায়*, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধীনস্থ তেলিয়াপাড়া বিওপি কর্তৃক মাধবপুর উপজেলার ২০নং সুরমা চা-বাগান নামক স্থানে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে ২০নং সুরমা চা-বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় চোরাকারবারীদের লুকিয়ে রাখা সন্দেহজনক একটি বস্তা তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ০৪ বোতল ভারতীয় বিয়ার এবং ০২ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
*অপরদিকে*, আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সিন্দুরখান বিওপি’র টহলদল কর্তৃক মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন কুঞ্জবন নামক স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৪ বোতল ভারতীয় মদ এবং একই তারিখে রাত ৮টার সময় সিন্দুরখান বিওপি’র টহলদল কর্তৃক মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন মাংরাবস্তি নামক স্থানে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ৬০০ প্যাকেট বাংলাদেশি মশার কয়েল জব্দ করা হয়।
*জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এবং বাংলাদেশি মশার কয়েল বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।*
*মাদকদ্রব্য এবং কয়েল আটকের বিষয়ে ৫৫ বিজিবি’র কর্তৃপক্ষ জানায়*, সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ রোধ এবং চোরাচালান দমনে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি’র কঠোর অবস্থান এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চোরাচালান ও মাদকমুক্ত সীমান্ত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply