রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

ফেইসবুক পোস্ট দেখে অসহায় জরিনার জরাজীর্ণ ঘর নির্মাণ করছে উপজেলা প্রশাসন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১
  • ১৯০ বার পঠিত

নুর উদ্দিন সুমন : জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিকুয়া এলাকার অসহায় জরিনা নামের এক নারীর জরাজীর্ণ ঘরটি নির্মাণ করে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে তার জন্য খাদ্যসামগ্রী ও দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার ভূমি মিলটন চন্দ্র পাল, উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পরিষদের সিএ ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন, নির্মান শ্রমিক সহ জরিনার বাড়ি ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, নিয়ে গিয়ে জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙ্গে নতুন পাকা ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্তিত ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আকবর হোসেন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে অসহায় জরিনার জরাজীর্ণ ঘরটি নিয়ে ফেইসবুকে লাইভ করেন চুনারুঘাটের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। জরিনা চুনারুঘাট উপজেলার ৬ নং সদর ইউনিয়নের জিকুয়া গ্রামের মৃত আ: ছুবহানের স্ত্রী । তার দেয়া লাইভটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অসহায় জড়িনার জরাজীর্ণ ঘরটি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও পোস্টদাতার সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল তড়িৎ গতিতে জড়িনার তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে জরিনার বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল, পিআইও প্লাবন পাল, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। একই সাথে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে উপজেলা প্রশাসন দুইদিনের মধ্যে জরিনা বেগমের জরাজীর্ণ ছাউনির স্থলে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নতুন পাকা বাসগৃহ নির্মাণের কাজ শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে প্রকৃত লোকজন দেখে ঘর প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে জরিনার জরাজীর্ণ ঘরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের ফেইসবুকে লিখেছেন, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর “আসমানী” কবিতার কথা খুব মনে পড়ে যায়। অনেক বছর আগে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তাঁর “আসমানী” কবিতায় লিখেছিলেন “বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চুনারুঘাট উপজেলার সকল ‘ক’ তালিকাভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন । প্রথম পর্যায়ে ইকরতলীতে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন ৭৪টি বাসগৃহ। প্রথম পর্যায়ের অবশিষ্ট ৬ টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয় পানছড়ি আশ্রয়নে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের ত্রিশটি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে রানীগাঁও ইউনিয়নে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও ৩০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে তুলে দিবেন দ্বিতীয় পর্যায়ের বাসগৃহগুলো। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চুনারুঘাট উপজেলার প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়ার প্রত্যয় বুকে নিয়ে মুজিববর্ষে শুরু থেকেই নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। সে ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এসিল্যান্ড মিল্টন চন্দ্র পালকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে এযুগের “আসমানী” জরিনা বেগমের বাসগৃহ পরিদর্শন করি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শে জরিনা বেগমের জরাজীর্ণ ছাউনির স্থলে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নতুন পাকা বাসগৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় । আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আর ও বলেন, উপজেলা প্রশাসন এমনই অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিতে খুঁজে চলেছে নিরন্তর। আর্তমানবতার সেবায় সকলকে এমন গৃহহীন ও দুস্থ মানুষের তথ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করেন। অসহায় জরিনা জানান, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর ৬ ছেলে মেয়ে নিয়ে শান্তিতেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ছুরত নামে এক ব্যক্তি খুন হন। উক্ত ঘটনায় তার ছেলেদেরকে প্রতিপক্ষ আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে জরিনার ছেলেরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং বাড়িতে পুরুষ শন্য হয়। এমতাবস্থায় সুযোগ সন্ধানীরা জরিনার ঘরবাড়ি দখল করে ঘরের টিন সহ জিনিসপত্র লোট করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে জরিনার দু:খ দুর্দশায় কাটে জরিনার জীবন। অবশেষে ব্যারিস্টার সুমনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন , উপজেলা চেয়ারম্যান সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। জরিনা খাতুন , উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন ও ব্যারিস্টার সুমন সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com