শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চুনারুঘাটে ৬ বছরের ব্যবধানে দুই ভাইকে হত্যা ॥ গ্রেপ্তার ৩ ঈদ উল আযহা উপলক্ষে পৌর এলাকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান বানিয়াচং হাসপাতালে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন চুনারুঘাটে চেয়ারম্যান পদে সৈয়দ লিয়াকত হাসানের চমক ॥ কাইয়ূম ও খাইরুন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগ মিরপুরে এনা বাসের চাপায় শিশু নিহত ॥ সড়ক অবরোধ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান ইকবাল ॥ ভাইস চেয়ারম্যান আফজল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডলি নির্বাচিত বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে শিশু নিহত আগামীকাল ৩ উপজেলায় ভোট গ্রহণ ॥ প্রস্তুতি সম্পন্ন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ

চুনারুঘাটের সংরক্ষিত বনে গাছ চোরদের কালো থাবা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ১৯৫ বার পঠিত

চুনারুঘাট প্রতিনিধি : উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বন দেশের ২য় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি। এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন। ১৭৯৫.৫৮ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমি থেকে প্রতিদিন উজাড় হচ্ছে মহামূল্যবান সব গাছ। ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে রেমা-কালেঙ্গা বনটি। বন বিভাগের লোকজন মাঝেমধ্যে চোরাই কাঠ আটক করলেও চোরাকারবারিরা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ২৪ এপ্রিল কালেঙ্গা রেঞ্জ অফিসের এক কিলোমিটারের মধ্যে তালতলা টিলা থেকে শতবর্ষী ১১টি গাছ কেটে ফেলেছে গাছ চোরেরা। এর মধ্যে পাহাড়ি মেহগনি ৫টি ও ৬টি ডাগি জামগাছ। বন বিভাগের লোকজন কাটা গাছগুলোর কিছু অংশ উদ্ধার করতে পারলেও চোরেরা বেশির ভাগ গাছই পাচার করে ফেলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার ১১ দিন পরও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি। কালেঙ্গা-রেমা ও ছনবাড়ি বিট থেকে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে সেগুনগাছ। বেশ কিছুদিন গাছ পাচার বন্ধ ছিলো। করোনার সুযোগে বিগত ১ বছর ধরে আবারো গাছ পাচার চলছে। চোরেরা ইতোমধ্যে রশিদপুর সংরক্ষিত বন উজাড় করে দিয়েছে। সেই বনে নতুন করে লাগানো হয়েছে গাছের চারা। চোরেরা চারা গাছও পাচার করছে।
কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ২৪ এপ্রিল গাছ কাটা হলেও চোররা গাছ নিতে পারেনি। কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ১৪০ ঘনফুট। এ ব্যাপারে বিট অফিসার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু অসাধু বন বিভাগের লোক, বন বিভাগ দ্বারা লালিত ভিলেজার (চুক্তিভিত্তিক বনপ্রহরী) স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয় লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিরাই মূলত রেমা-কালেঙ্গা বন ধ্বংসের পেছনে দায়ী। তাদের সহযোগিতাই বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে চলছে গাছপাচারের মহোৎসব। একসময় এই বনে ৫০০ প্রজাতির গাছ ছিলো। এখন তা ১০ /১২ প্রজাতিতে নেমে এসেছে। অব্যাহতভাবে গাছ কাটার কারণে অনেক প্রজাতির গাছ বন থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ১১শ থেকে ১২শ বনমজুর রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রবেশ করে বনজ সম্পদ লুট করছে। ওই বনমজুরদের কাছ থেকে জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এ গাছ পাচারে জড়িত। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো,আমাদের লোকবল কম। তাই গাছ পাচার রোধ করা যাচ্ছেনা।
এদিকে চুনারুঘাটে বৈধ ও অবৈধ ৫১টি করাতকলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ চিরাই হচ্ছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বন। বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থানেও করাতকল স্থাপিত হয়েছে। করাত কল থেকে বন বিভাগের লোকজন মাসোয়ারা আদায় করে।
গাছপাচার রোধে ১৯৯৮ সালে চুনারুঘাটে বন বিভাগের স্পেশ্যাল টহল বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এ বাহিনী গঠনের পর উপজেলায় গাছ চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এ বছর জানুয়ারিতে এখান থেকে টহল বাহিনী উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বন বিভাগ দ্বারা বেষ্টিত এ উপজেলায় বেড়ে যায় গাছপাচার। স্থানীরা গাছপাচার রোধে চুনারুঘাটে টহল বাহিনী পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com