শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নবীগঞ্জে ফ্রান্স প্রবাসী আব্দুল মুমিনের বাড়ি ঘর হামলা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগ ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ উদযাপনে হবিগঞ্জে র‍্যালি ও গ্রাহক সম্মেলন চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে প্রত্যাহার ৪ পুলিশ সদস্য আজমিরীগঞ্জের শিবপাশায় পুত্রের হাতে পিতা খুন আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই-এএসআই ইলিয়াছ চুনারুঘাটে এলপিজি ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দিনারপুরে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রেহেনার দেশে ফেরার আকুতি ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে– প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

চুনারুঘাটের সংরক্ষিত বনে গাছ চোরদের কালো থাবা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৩২৮ বার পঠিত

চুনারুঘাট প্রতিনিধি : উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বন দেশের ২য় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি। এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন। ১৭৯৫.৫৮ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমি থেকে প্রতিদিন উজাড় হচ্ছে মহামূল্যবান সব গাছ। ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে রেমা-কালেঙ্গা বনটি। বন বিভাগের লোকজন মাঝেমধ্যে চোরাই কাঠ আটক করলেও চোরাকারবারিরা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ২৪ এপ্রিল কালেঙ্গা রেঞ্জ অফিসের এক কিলোমিটারের মধ্যে তালতলা টিলা থেকে শতবর্ষী ১১টি গাছ কেটে ফেলেছে গাছ চোরেরা। এর মধ্যে পাহাড়ি মেহগনি ৫টি ও ৬টি ডাগি জামগাছ। বন বিভাগের লোকজন কাটা গাছগুলোর কিছু অংশ উদ্ধার করতে পারলেও চোরেরা বেশির ভাগ গাছই পাচার করে ফেলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার ১১ দিন পরও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি। কালেঙ্গা-রেমা ও ছনবাড়ি বিট থেকে প্রতিদিনই পাচার হচ্ছে সেগুনগাছ। বেশ কিছুদিন গাছ পাচার বন্ধ ছিলো। করোনার সুযোগে বিগত ১ বছর ধরে আবারো গাছ পাচার চলছে। চোরেরা ইতোমধ্যে রশিদপুর সংরক্ষিত বন উজাড় করে দিয়েছে। সেই বনে নতুন করে লাগানো হয়েছে গাছের চারা। চোরেরা চারা গাছও পাচার করছে।
কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ২৪ এপ্রিল গাছ কাটা হলেও চোররা গাছ নিতে পারেনি। কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ১৪০ ঘনফুট। এ ব্যাপারে বিট অফিসার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু অসাধু বন বিভাগের লোক, বন বিভাগ দ্বারা লালিত ভিলেজার (চুক্তিভিত্তিক বনপ্রহরী) স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয় লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিরাই মূলত রেমা-কালেঙ্গা বন ধ্বংসের পেছনে দায়ী। তাদের সহযোগিতাই বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে চলছে গাছপাচারের মহোৎসব। একসময় এই বনে ৫০০ প্রজাতির গাছ ছিলো। এখন তা ১০ /১২ প্রজাতিতে নেমে এসেছে। অব্যাহতভাবে গাছ কাটার কারণে অনেক প্রজাতির গাছ বন থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ১১শ থেকে ১২শ বনমজুর রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রবেশ করে বনজ সম্পদ লুট করছে। ওই বনমজুরদের কাছ থেকে জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এ গাছ পাচারে জড়িত। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো,আমাদের লোকবল কম। তাই গাছ পাচার রোধ করা যাচ্ছেনা।
এদিকে চুনারুঘাটে বৈধ ও অবৈধ ৫১টি করাতকলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ চিরাই হচ্ছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বন। বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থানেও করাতকল স্থাপিত হয়েছে। করাত কল থেকে বন বিভাগের লোকজন মাসোয়ারা আদায় করে।
গাছপাচার রোধে ১৯৯৮ সালে চুনারুঘাটে বন বিভাগের স্পেশ্যাল টহল বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এ বাহিনী গঠনের পর উপজেলায় গাছ চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এ বছর জানুয়ারিতে এখান থেকে টহল বাহিনী উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বন বিভাগ দ্বারা বেষ্টিত এ উপজেলায় বেড়ে যায় গাছপাচার। স্থানীরা গাছপাচার রোধে চুনারুঘাটে টহল বাহিনী পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com