মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

চুনারুঘাট অবৈধ করাতকলে বন উজাড়! সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৪৭২ বার পঠিত

নাজিম উদ্দিন সুহাগ ॥ চুনারুঘাট উপজেলায় বিভিন্নস্থানে গড়ে ওঠা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে  করাতকল। একাধিকবার অভিযানে বন্ধ করে দেয়া স’মিল গুলো পরবর্তীতে অবৈধ করাতকল মালিকরা প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে নির্বিঘেœ  চালিয়ে যাচ্ছেন।সংশিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে এসব করাতকল। এছাড়া যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব করাতকলে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনজসম্পদ অন্যদিকে প্রতি বছর সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় যথাযথ পক্রিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ করাতকলের সংখ্যা মাত্র ৩৩টি। অপরদিকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে পরিচালিত ১১টি। এর মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে ৮টি।চুনারুঘাট রেঞ্জের আওতাধীন বনের ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে প্রভাবশালীরা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাতকল (স’মিল) চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৭ মে ২০১২ইং সালের পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের গেজেটের এক প্রজ্ঞাপনের বিধি অনুযায়ী- সংরক্ষিত, রক্ষিত,অর্পিত কিংবা অন্য যেকোন ধরণের সরকারি বন থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।এমনকি সরকারি অফিস-আদালত,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনস্বাস্থ্য কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করবে এমন স্থানের ২০০ মিটার দূরে করাতকল স্থাপন করতে হবে। উল্লেখিত কোন স্থানে করাতকল স্থাপন করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে মালিক তা বন্ধ করে দিবে। তানাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই করাতকল বন্ধ করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছেওই রেঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনাঞ্চল চা-বাগানের অধিকাংশ স’মিল ৩কিলোমিটারের ভিতরে আব্দুল হাইর করাতকল সহ দেওরগাছ দোকান ঘর এলাকায় ২টি রয়েছে। আমতলী রেলস্টেশন চাবাগান ও বনবিভাগ থেকে ২কিলোমিটার এর মধ্যে আশ্রাব আলীর করাতকল সহ ২টি। এসব করাতকলের পাশ্ববর্তী এলাকার চান্দপুর, জোয়াল ভাঙ্গা, চন্ডিছড়া, চাকলা পঞ্জি,লস্করপুর, রাম গঙ্গা চাবাগানসহ,সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান রয়েছে। এসব লাইসেন্সবিহীন করাতকল যা সম্পূর্ণ বিধিমালা বহির্ভূত। বনাঞ্চলঘেষা স্থানীয়রা জানায়, ওইসব লাইসেন্সবিহীন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে দীর্ঘ বছর আগে করাতকল স্থাপন করা হলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্টরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। স্থানীয়রা জানায় এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তারা চালিয়ে আসছেন এসব করাতকল, এ কারনে ওইসব করাতকলের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ করাতকল স্থাপন করে দিনরাত চোরাই কাঠ চিরাই করছে চোরা কারবাররা। এসব করাতকল ও অতিরিক্ত গাছ চুরির কারণে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকার বাগান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, অনুমোদনবিহীন এসব অবৈধ করাতকলের মাধ্যমে বেপরোয়াভাবে চলছে বৃক্ষনিধন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ স-মিল গড়ে উঠেছে চুনারুঘাট মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক ঘেঁষে। চুনারুঘাট উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন ইকবাল বলেন, মূলত অবৈধ করাতকলের বিষয়টা বন বিভাগের। এগুলো মোবাইল কোর্টে বিচার করে থাকেন। বন বিভাগ তথ্য দিলেই তারা ব্যবস্থা নেবেন। চুনারুঘাট রেঞ্জ কমর্র্কতা বলেন, যারা অবৈধভাবে চালাচ্ছে তাদের ইতোমধ্যে নোটিশ দেয়া হয়েছে। অনেকে লাইসেন্স পেতে আবেদন করছে। বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com