মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

লাখাইয়ে কলেজছাত্রী আত্মহত্যায় প্রধান আসামী প্রেমিক মামুন হাসান কারাগারে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৯
  • ৩৯৮ বার পঠিত

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার পুর্ব রুহিতনসীপুর গ্রামে কলেজছাত্রী আমিনা চৌধুরী মিতুর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে প্রেমিক মামুন হাসানের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ সময় তার পিতা হারুনুর রশীদকে জামিন প্রদান করে আদালত। এর আগে গত ২৮ ফেব্র“য়ারি তারা ৪ সপ্তারের আগাম জামিন আনে। ২৬ মার্চ তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গতকাল বুধবার তারা দুজনে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত এ রায় প্রদান করেন। উল্লেখ্য, নিহত আমিনা চৌধুরী মিতু লাখাই মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি মামুন হাসানও একই কলেজের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তারা দু’জনে একই কলেজে লেখাপড়া করার সুবাধে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সুবাধে মামুন হাসান মিতুর বিভিন্ন ছবি গোপনে তার মোবাইলে ধারণ করে রাখে। একপর্যায়ে মামুন হাসান ওই ছবিগুলোকে পুজি করে মিতুকে তার সাথে বিভিন্ন স্থানে দেখা করার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মিতু তার মাকে জানায়। পরে ১৪ ফেব্র“য়ারি বিষয়টি নিয়ে মিতুর পরিবারের লোকজন মানুন হাসানের পরিবারের কাছে যায়। এ সময় মামুন হাসানের পরিবারের লোকজন মিতুর আত্মীয়-স্বজনদের সাথে অশালিন আচরণ করে এবং বাড়ি থেকে বেড় করে দেয়। তারা চলে আসলে ওই দিনই মিতু মোবাইল ফোনে মামুন হাসানকে বিয়ের জন্য বলে। এ সময় মামুন বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং মিতুর সাথে অশালিন আচরণ করে। এতে রাগে, অভিমানে ও অপমানে নিরুপায় হয়ে ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ওইদিন সকালে পরিবারের লোকজন ঘুম থেকে উঠে মিতুর ঘরে গিয়ে তার লাশ ঝুঁলতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় পুলিশ মিতুর রুম থেকে একটি মোবাইল ফোন ও ডায়রি উদ্ধার করে। যেখানে অনেক কিছু শেষে লিখা ছিল ‘মামুন আমি তুমাকে অনেক লাভ করি’। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র তুমিই দায়ি। এ ব্যাপারে ১৭ ফেব্র“য়ারি রবিবার বিকেলে নিহত মিতুর পিতা মো. আজিুল হক চৌধুরী বাদি হয়ে লাখাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিতুর কথিত প্রেমিক মামুন হাসান (২০) ও তার পিতা হারুনুর রশীদকে (৪৫) আসামীকরা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com