স্টাফ রিপোর্টার : হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে রোগীর চাপ। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারণমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। বিশেষ করে হাম, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। হাম আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসক-নার্সদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলোতে রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগীর স্বজনকে ওয়ার্ডের ভেতর ও আশপাশে অবস্থান করতে হচ্ছে। জায়গার সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শয্যা খালি না থাকায় অনেক সময় মেঝেতে বা করিডোরে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের সমক্ষতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেই অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। রোগীর চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য হাসপাতালের শয্যা, জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
Leave a Reply