স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিগন্যাল অমান্য করে একটি ড্রাম ট্রাক নিয়ে ছুটছিলো তারা। কিন্তু পথে একটি হায়েস গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে সরু রাস্তা ধরলে এক সময় কাত হয়ে থেমে যায় সেটি। ডাম ট্রাক ছেড়ে দ্রুত পালাতে চেয়েছিলেন জীবন ও আরিফ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিশাল
মদের চালানসহ তারা ধরা পড়লেন র্যাবের হাতে। ঘটনা শুক্রবার (১১ জুলাই) ভোরের দিকের।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিলেট সদর কোম্পানী, ও সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, ভোর ৪টার দিকে সিলেটের শালুটিকর ব্রিজের পাশে চেকপোষ্ট করছিল। তখন একটি ডাম ট্রাককে থামানোর সংকেত দিলে তা অমান্য করে ট্রাকটি দ্রæত গতিতে সিলেট সদরের দিকে রওনা করে। তখন সরকারি একটি হায়েস গাড়িতে করে র্যাব সদস্যরা ডাম ট্রাকটিকে অনুসরণ করেন। ট্রাকটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে ঢাকার দিকে রওনা করে। পরে হবিগঞ্জের লস্করপুর রেলক্রসিংয়ের সিগনাল পড়ায় ডাম ট্রাকটি হায়েস গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে লস্করপুরের সরু রাস্তায় প্রবেশ করে। র্যাব সদস্যরা ডাম ট্রাকের পিছু নেন এবং হবিগঞ্জ সদরের লস্করপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হামুয়া এলাকার পাকা রাস্তার পাশে ট্রাকটি পড়ে থেমে যায়। এসময় ট্রাকটির বামদিকের দরজা খোলে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর সময় তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বারদী গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে মো. জীবন মিয়া (২৭) ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সুফিরকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. আরিফ ভ‚ঁইয়া (৩০)। এসময় বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাকটি তল্লাশি করে ১৮৮০ বোতল বিদেশী মদ জব্দ করা হয়। এদিকে র্যাবের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আটক দুইজন আহত হলে পুলিশ হেফাজতে তাদেরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং জব্দকৃত আলামত ও ট্রাক সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।র্যাবের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবিষয়ে সদর থানার ওসি একেএম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, আটক সদর থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। জব্দকৃত মালামাল তাদের জিম্মায় রয়েছে। আটকদের নিকট থেকে আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।
Leave a Reply