স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে। অভিযানে ৫টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান তল্লাশী করে বালু, পাথর ও ইটের টুকরোর ভেতর অভিনব কায়দায় লুকানো ভারতীয় জিরা, কসমেটিকস, ব্লেড, চকলেটসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।
গোপন সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকা হয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য ট্রাকযোগে দেশের ভেতরে পাচারের উদ্দেশ্যে মাধবপুর-চুনারুঘাট সড়ক ব্যবহার করা হবে। তথ্যের ভিত্তিতে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর দিনে ও রাতে একাধিক তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার চুনারুঘাট-সাতছড়ি রোডে সীমান্ত এলাকা হতে প্রায় ২ কিলোমিটার ভেতরে তেলিয়াপাড়া এলাকায় স্থাপিত তল্লাশী চেকপোস্টে সন্দেহজনক ট্রাকগুলোর গতিবিধি নজরে আসে। এক পর্যায়ে টহল দল সংকেত দিয়ে একটি ট্রাক থামালে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশী করে দেখা যায়, উপরের স্তরে বালু–পাথর ও ইটের টুকরো থাকলেও নিচে কৌশলে লুকানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, কসমেটিকস, ব্লেড, চকলেট এবং অন্যান্য চোরাচালানী মালামাল। একই পদ্ধতিতে লুকানো পণ্যসহ আরও ৪টি ট্রাক আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই রুট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চোরাই পণ্য পাচার করে আসছিল। অভিযান সম্পর্কে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, “বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তায় সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ আমাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চোরাচালানীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযানের সক্ষমতার কারণে তারা পার পাচ্ছে না। এই ধরনের অভিযান শুধু অপরাধীচক্রকে দুর্বল করে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।” তিনি আরও বলেন, “জব্দকৃত পণ্যসমূহ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হবিগঞ্জ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি চোরাচালানে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিজিবির গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদক–চোরাচালান বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”
Leave a Reply