স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয় সংস্কার করে অপপ্রচারের জবাব দিবে সরকার। একটি পক্ষ বিএনপি সংস্কার চায় না-এমন বক্তব্য দিচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি শুধু সংস্কার চায় না, সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। আজ (শনিবার, ৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের অস্তিত্ব। কিন্তু কিছু মানুষ এই ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধ কালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে ছিলেন জিয়াউর রহমানের নের্তৃত্বে ওই ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া বাংলোতে এম এ ওসমানীর নের্তৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডের প্রথম মিটিং হয় তারপর দেশের আপামর মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে ’২৪’র গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমাদের আরেকটি গৌরবের ইতিহাস। আমরা জুলাই সংগ্রাম ও অভ্যুত্থানকে ধারণ করি।’দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তাই বিএনপিতে কোনো দুষ্ট মানুষের ঠাই হবে না।’ এসময় অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ¦ জি কে গউছ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল বলেন চা শ্রমিকদের উন্নয়ন এবং চা বাগানে স্কুল স্থাপনে সকল প্রকার সহযোগীতা করব। তেলিয়াপাড়ায় যাতে একটি যাদুঘর স্থাপিত হয় সে বিষয়ে দাবী জানান। জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ বলেন, আমি মাঠের নেতা। হবিগঞ্জে আমার জন্ম। হবিগঞ্জআাসীর উন্নয়নে আমি সব সময় আন্তরিক। ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, এটা হবিগঞ্জবাসীর গর্ব। এটাকে সংরক্ষণ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এছাড়াও সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ‘হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী স্থান। এখানেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রথম সুসংগঠিত সামরিক রণকৌশল নির্ধারণ করা হয় এবং যুদ্ধকে ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে বিভক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এই ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ এবং এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply