মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরে বিজিবির পৃথক অভিযান ২৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ চুনারুঘাট সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযান ৮টি ভারতীয় গরু ও ৫৫ কেজি গাঁজা জব্দ জ্বালানি তেল পাচার রোধে হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি মাধবপুরে ১০ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সল এর নির্দেশে চা বাগানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবিগঞ্জে ট্রাক্টরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক নিহত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ রমজান মাস শুরুর আগেই বাড়ছে লেবু ও শসার দাম শুভেচ্ছা বিমিনিময়কালে সংসদ সদস্য এস.এম.ফয়সল ॥ চুনারুঘাট-মাধবপুরের দু’এলাকায় উন্নয়ন করার মাধ্যমে এ ঋন শোধ করতে চাই ধামালি চুনারুঘাটের প্রধান উপদেষ্টা মামুন চৌধুরীকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান

চুনারুঘাটে একই পরিবারের তিন ভাই বোন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ মে, ২০২৫
  • ৮১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের বালিয়াড়ি গ্রামের দিনমজুর ফরিদ মিয়া ও সামছুননাহার দম্পতির তিন সন্তান নাহিদা (১১), নাহিদ (৯) ও নিহাদ (৪) তেলাছামিয়া নামক দুরারোগ্য রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত। জন্মের মাত্র নয় মাস বয়স থেকে তাদের এই রোগ ধরা পড়ে। এই রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয় এবং ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের বয়স বাড়লেও তাদের শারীরিক বৃদ্ধি থেমে গেছে, এবং প্রতিনিয়ত দুর্বলতা ও ক্লান্তির সঙ্গে সংগ্রাম করছে তারা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শিশুদের চিকিৎসা চলছে, কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে থেমে যাচ্ছে চিকিৎসার গতি। চিকিৎসকদের মতে, তেলাছামিয়া রোগে আক্রান্তদের প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়। চিকিৎসা না করা হলে এ রোগীরা রক্তশূন্যতায় মারা যায়। এই রোগের একমাত্র চিকিৎসার বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে আমাদের দেশে তেলাছামিয়ার রোগীদের মধ্যে এখনো বোনমেরু ট্রান্সপ্ল্যান্ট শুরু হয়নি। অন্য যে চিকিৎসা, তাও ব্যয়বহুল।
ফরিদ মিয়া বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। তিনজন সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধুই অসহায়ত্ব অনুভব করি। ১১ বছরের শিশু নাহিদা আক্তার বলেন, “আমি লেখাপড়া করে সমাজে বাঁচতে চাই, কিন্তু অসুস্থতার কারণে পড়াশোনা করতে পারছি না। আমাকে বাচাঁন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেলাছামিয়া প্রতিরোধযোগ্য। স্বামী-স্ত্রী দুজনই তেলাছামিয়ার বাহক হলে তখনই সন্তানের এ রোগ হতে পারে। শিশুদের মা, সামছুননাহার জানান, ক্যানসার বিশেষেজ্ঞ ডা: নবেন্দ্র চৌধুরীর তত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তেলাছামিয়া রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয় এবং ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন আর্থিক দুরবস্থার কারণে সু চিকিৎসা করতে পারছিনা। সন্তানদের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় আমাদের পরিবার। এখন সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধুই অসহায়ত্ব! তাই এই পরিবার মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের হৃদয়বান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের সহায়তা চাচ্ছেন। আমাদের সামান্য সহযোগিতা হয়তো তিনটি নিষ্পাপ প্রাণকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
ক্যানসার বিশেষেজ্ঞ ডা: নবেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তেলাছামিয়া, যা থ্যালাসেমিয়া নামেও পরিচিত, একটি বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে হিমোগেøাবিন তৈরির প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ না করায় রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে তাদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়া বলেন, এই পরিবারের ৩সন্তান তেলাছামিয়া রোগে আক্রান্ত সন্তানদের নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন পিতামাতা। ফরিদ মিয়া ও সামছুননাহার দম্পতির সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য সমাজের সহানুভূতি ও সাহায্য প্রয়োজন। যারা সাহায্য করতে ইচ্ছুক, তারা ০১৭৫০৩২৩৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com