স্টাফ রিপোর্টার : আখাউড়ায় ব্রিজ থেকে ৪০ ফুট নিচে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনায় চুনারুঘাটের বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। হাওর অঞ্চলের ট্রেন যাত্রায় আবারও ঘটল মর্মান্তিক প্রাণহানি। সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে চড়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে ট্রেন থেকে পড়ে মিজান মিঞা পাঠান (২৮) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর শনিবার গভীর রাতে আখাউড়া রেলওয়ে থানাধীন ২০৩/৭ কিলোমিটার এলাকার একটি ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এতে ট্রেন থেকে প্রায় ৪০ ফুট নিচে পানিতে পড়ে যান ওই যুবক। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিজান মিয়া পাঠান ঢাকার বিখ্যাত ‘হা-মীম গ্রুপ’-এর একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ছুটি শেষে নিজের কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের বক্তব্য ও ট্রেনের যাত্রা:
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহত মিজান মিয়ার বড় ভাই জানান, গতকাল রাতে তাঁর ছোট ভাই শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় কিংবা অসাবধানতার কারণে তিনি সম্ভবত ট্রেনের ছাদে অথবা দরজার হাতলে/গেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসেছিলেন। ট্রেনটি আখাউড়া সীমানাধীন ব্রিজের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় কোনোভাবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।
এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য কথা বলি সিলেট রেলওয়ে পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ এর সাথে তিনি বলেন।
ছিনতাই বা হামলার সম্ভাবনা নাকচ:
ঘটনাটিকে প্রাথমিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বজনরা। তদন্তে দেখা গেছে, মৃতের শরীরে বড় ধরনের কোনো ধারালো অস্ত্রের কোপ বা গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিহতের পরিহিত প্যান্টের পকেটে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মালামাল সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশের মতে, কোনো ছিনতাইকারী বা অপরাধী চক্র এর পেছনে জড়িত থাকলে মালামাল লুট করার ঘটনা ঘটত। যেহেতু যাবতীয় মালামাল সঙ্গে পাওয়া গেছে, তাই এখানে কোনো দুষ্কৃতকারীর সম্পৃক্ততা নেই বলেই প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ প্রতিনিধি জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ—অর্থাৎ পানিতে ডুবে মৃত্যু নাকি ট্রেন থেকে নিচে আঘাত পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা ময়নাতদন্তের (পিএম) রিপোর্ট হাতে আসলেই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পোশাক কারখানার একজন উদীয়মান তরুণ কর্মীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a Reply