সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রী সভায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন ‘আনন্দিত হবিগঞ্জবাসী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৩৬৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ নিউফিল্ডে বিশাল জনসভায় জেলাবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নিকট তিনটি বড় দাবি উপস্থাপন করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি। দাবিগুলো হলো, হবিগঞ্জে কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলায় ঘোষণা। বারবার নৌকার বিজয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হবিগঞ্জের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি থাকায় নিজের বক্তৃতার সময় সকল দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলে নিউফিল্ডে অবস্থিত লাখো জনতার মাঝে সৃষ্টি হয় আনন্দ উল্লাস। এই ঘোষণার কিছুদিনের মাঝেই বাস্তবায়ন হয় মেডিকেল কলেজ। নামকরণ হয় শেখ হাসিনা’র নামে। গত বছর নিকারের বৈঠকে ঘোষণা করা হয় শায়েস্তাগঞ্জকে নতুন এবং দেশের সর্বশেষ উপজেলা। ইতোমধ্যে উপজেলাটির প্রথম আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় দাবি কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ও এবার বাস্তবায়নের পথে। সোমবার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এখন এই আইন জাতীয় সংসদে যাবে। আগামী অধিবেশনে সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হলে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভেন্ডিং হবে এই আইন। যথাসময়ে এই কার্যক্রম শেষ হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদের সভায় আইনটি নিয়ে আলোচনা হলে তা নীতিগতভাবে অনুমোদন লাভ করে। হবিগঞ্জবাসী সব সময় জেলার ৪টি আসনে নৌকাকে বিজয়ী করায় হবিগঞ্জকে বলা হয় ২য় গোপালগঞ্জ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হবিগঞ্জবাসীর প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। ফলে সহজেই আইনটি সংসদে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি আরও জানান, আইনটি সংসদের আগামী অধিবেশনেই যাতে পাশ হয় তার জন্য চেষ্টা করব। এতে করে চলতি শিক্ষাবর্ষে যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা ভর্তি হতে পারবেন। প্রাথকিভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর কার্যক্রম শুরু হবে। পরে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। সোমবার মন্ত্রী পরিষদে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগতভাবে অনুুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জে সবার মাঝে আনন্দ উল্লাসের সৃষ্টি হয়।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জবাসীর জন্য এই খবর আনন্দের। হবিগঞ্জকে অতীতে কোন সরকার এত বড় উন্নয়ন এনে দিতে পারেননি। এটি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট মো. আবু জাহির এমপির প্রচেষ্টা আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার জন্য সম্ভব হয়েছে।

হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাষ চন্দ্র দেব বলেন, হবিগঞ্জ এক সময় অবহেলীত ছিল। এখন এই জেলা অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। একটি এলাকাকে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগের বিকল্প নেই। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে হবিগঞ্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে এটি যাতে গতানুগতিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, হবিগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সময়ের দাবী ছিল। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি যখন নিজ এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেন তখন এ ধরনের দাবী পূরন সহজ হয়ে যায়। এমপি আবু জাহির যেভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন তার মাধ্যমে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হবে এই প্রত্যাশা আমাদের ছিল। হবিগঞ্জে যে হারে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com