স্টাফ রির্পোটার: হবিগঞ্জ জেলায় টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে খোয়াই, কালনী ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই কিংবা অতিক্রম করেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই নদীর গেট খুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের দুর্বল অংশে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খোয়াই নদীর চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কালনী-কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
যদিও খোয়াই নদীর হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ২৯৭ সেন্টিমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ৩৫৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে, তবে উভয় স্টেশনেই দ্রুত পানি বাড়ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (নবীগঞ্জ) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং মার্কুলী (বানিয়াচং) পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এর মধ্যে মার্কুলী পয়েন্টটি বিপৎসীমার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় বিশেষভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর লাখাইয়ের মাদনা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে, সুতাং নদীর শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাই সড়কের সুতাং ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং সোনাই নদীর মাধবপুরের মনতলা পয়েন্টে ৩৮৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সব স্টেশনেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১০৯ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারতের খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় খোয়াই নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে কালনী-কুশিয়ারার পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পানি এভাবে বাড়তে থাকলে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন দুর্বল অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যে কোনো সময় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত সাড়া দিতে জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply