স্টাফ রির্পোটার: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ১০ মেগাওয়াট বিশেষ বিদ্যুৎ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২২-এর সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার।
এ লক্ষ্যে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে একটি ডিও পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ এবং চলমান ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন , জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় দিন ও রাতে ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৭ মেগাওয়াট। অন্যদিকে রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ মেগাওয়াটে, কিন্তু তখনও সরবরাহ সীমাবদ্ধ থাকে ৫ থেকে ৭ মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চুনারুঘাট উপজেলার জন্য অতিরিক্ত ১০ মেগাওয়াট বিশেষ বিদ্যুৎ বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানান সংসদ সদস্য।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গৃহস্থালি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, লোডশেডিং এর কারনে বর্তমানে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ। এমন মহতী উদ্যোগ জানাই।
এদিকে, সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগকে চুনারুঘাটের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক।
Leave a Reply