স্টাফ রির্পোটার: হবিগঞ্জে সীমান্তজুড়ে পৃথক অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা, একটি ট্রাক, মাদকদ্রব্য জব্দ এবং চারজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ হওয়া জিরা পরিবহনে কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি/এক্সপোর্টের জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গত বুধবার (১ জুলাই) পরিচালিত এসব অভিযানের তথ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা বিওপির টহলদল মাদকবিরোধী অভিযানে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোবরখোলা এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে।
একই দিনে পৃথক আরেক অভিযানে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ অভ্যন্তরের টেকেরঘাট এলাকা থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ও এক লিটার ভারতীয় মদসহ চারজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন—মো. কেলো মিয়া (৪৫), মো. শামীম মিয়া (৩০), মো. বেলাল মিয়া (৩০) ও নুর ইসলাম (৪০)। তাদের সবার বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট গ্রামে।
এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই দিন রাতে মাধবপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বিজিবি একটি তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। রাত প্রায় ১২টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক সেখানে পৌঁছালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চালক ও হেলপার ট্রাকটি রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ড থেকে তামাবিল ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনের সহকারী রেভিনিউ কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত বিল অব এন্ট্রি/এক্সপোর্টের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র যাচাই করলে জানা যায়, সেগুলো ফটোকপি ও কম্পিউটারে তৈরি জাল নথি এবং তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ব্যবহার করা হয়েছে।
এরপর ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ২০০ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত জিরা ও ট্রাকের আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ভারতীয় মদ হবিগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে, জব্দকৃত জিরা ও ট্রাক হবিগঞ্জ কাস্টমস অফিসে এবং ইয়াবা ও মদসহ আটক চারজনকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply