স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানি তেল সংকট কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে সীমান্তপথে পাচার ঠেকাতে হবিগঞ্জ সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করছেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পরিবহনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫) বিজিবি। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ কিংবা পাচারের চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে বিজিবি। সীমান্তের যেসব রুট দিয়ে অতীতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থানকে বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল পরিচালনা করছেন। হবিগঞ্জ-৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ বা পাচারের চেষ্টা করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্ছ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী সড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো পরিবহন দেখলেই তাৎণিকভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে, যাতে আগে থেকেই কোনো পাচারচক্রের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দেশের স্বার্থ রায় এবং জ্বালানি তেলসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম চালু থাকবে।
Leave a Reply