শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ০৬:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বাহুবলে হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও বাহুবলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা হবিগঞ্জে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে বাড়িতে পাঠালেন- ডিসি এনি লস্করের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল হবিগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকার প্রকাশনাও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ চুনারুঘাটে ২যুবককে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত ওসমানীতে প্রেরণ আটক ১ বাহুবলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার জরিমানা চুনারুঘাটে নতুন এসিল্যান্ড মিলটন চন্দ্র পাল চুনারুঘাটে করোনা সংক্রমণ এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জীবাণুনাশক ছিটানোহচ্ছে

আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জীর জানাযায় লাখো মুসল্লীয়ানের ঢল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩১ বার পঠিত

শেখ মোঃ হারুনুর রশিদ।। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম,হাদিস বিশারদ (মোহাদ্দিস)হবিগঞ্জের আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জীর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী উমেদনগর টাইটেল মাদরাসা প্রাঙ্গণেই মসজিদের পাশে ফুলবাগানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে জানাযার নামাজ শেষে দাফন করা হয় দেশ বরণ্যে এ আলেমকে। জানাযায় ইমামতি করেন হুজুরের বড় ছেলে মাওলানা মাসরুরুল হক। জানাযায় অংশ গ্রহন করেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লীয়ান।

হবিগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া টাইটেল মাদ্রাসা, হবিগঞ্জ তেতৈয়া মাদানীনগর মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা, নুরুল হেরা জামে মসজিদসহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা তাফাজ্জুল হকের মৃত্যুতে হবিগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুর খবর শুনে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন তাকে দেখতে হবিগঞ্জ ছুটে আসেন। এছাড়াও হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীর উস্তাদের মৃত্যুর খবর শুনে শহরের চৌধুরী বাজার বাসভবন এলাকায় জড়ো হন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে অধ্যায়ন ও শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন তিনি। আল্লামা আহমেদ শফীর পরেই আল্লামা তাফাজ্জুল হককে দেশের পূর্বাঞ্চলের বয়োজেষ্ট আলেম হিসাবে গণ্য করা হয়। তার আমন্ত্রণে হবিগঞ্জের জামেয়া মাদ্রাসায় সৌদী আরবের দুই পবিত্র মসজিদের ইমাম, বায়তুল মোকাদ্দসের ইমামসহ দেশ ও বিদেশের বহু আলেম এসেছেন। কিছুদিন আগে অসুস্থ থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী তাকে দেখতে যান।

হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক ইসলাম প্রিয় মানুষের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তাকে ঘিরে সাধারণ মুসল্লীদের আবেগ অনুভূতি ছিল বাধ ভাঙ্গা জুয়ারের মতো। কোরআন হাদিসের আলোকে বক্তব্য রাখতে তিনি কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করেন না।

১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর ছিলেন বড় মাপের আলেম। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। লেখাপড়ার শুরুটা বাবার হাত ধরেই। তারপর রায়ধর মাদ্রাসা। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পীর ও আলেমে দ্বীন চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফি আল্লামা তাফাজ্জুল হকের শিক্ষক।

চট্টগ্রাম থেকে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান পাকিস্তানে। পাকিস্তানের লাহোর জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় তিনি লেখাপড়া করেন। সেখানকার তার উস্তাদ শায়খুল হাদিস আল্লামা রসুল খান ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আলেমে দ্বীন।

লাহোর থেকে জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে আল্লামা তাফাজ্জুল হক চলে যান ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি উস্তাদ শায়খুল হাদিস ফখরুদ্দিন (র) এর সান্নিধ্য লাভ করেন। আল্লামা ফখরুদ্দিন (র) ছিলেন একাধারে পীর ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা। ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান আহরনের পর তিনি চলে আসেন বাংলাদেশে। শিক্ষকতার পেশা দিয়ে তার জ্ঞান বিতরণ কার্যক্রম শুরু। শিক্ষা গ্রহণটা যেহেতু বাড়ি থেকে শুরু, শিক্ষা প্রদানটাও প্রায় একই স্থান থেকেই শুরু। রায়ধর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসাবে তিনি প্রথম শিক্ষকতার পেশা শুরু করেন। একবছর তিনি সেখানে ছিলেন। পরে চলে যান কুমিল্লার বরুরায়। সেখানেও তিনি শিক্ষকতা করেন।

ময়মনসিংহের জামেয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসাসহ ময়মনসিংহ জেলায় তিনি বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর পর তার উস্তাদরা তাকে পাঠিয়ে দেন নিজ জেলা হবিগঞ্জে। প্রথমে তাকে মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় উমেদনগর মাদ্রাসায়।

১৯৫৭ সালে শায়খুল হাদিস মিছবাহুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত উমেদনগর মাদ্রাসায় তখনও দাওরায়ে হাদিস বিভাগ ছিল না। আল্লামা তাফাজ্জুল হক এসে দাওরায়ে হাদিস বিভাগ চালু করেন। এরপর নিরন্তরভাবে হাদিস শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন তিনি।

৭১ থেকে ২০২০ সাল। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি হাদিস শাস্ত্র পড়িয়ে কয়েক হাজার মুহাদ্দিস তৈরী করেন। যারা এখন দেশ বিদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শুধুই কি পুরুষরা হাদিস শিক্ষা অর্জন করবে? মহিলারা বাদ যাবে কেন? শুধু এই চিন্তায় তিনি ১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জের তেতৈয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মাদানী নগর মহিলা মাদ্রাসা। এই পর্যন্ত মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২২৫ জনেরও বেশি মহিলা মুহাদ্দিস সনদ নিয়ে বের হয়েছেন। তারা এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি পরিবারে হাদিস শিক্ষা প্রদান করছেন।

শায়খুল হাদিস তাফাজ্জুল হক বিয়ে করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর বড় হুজুর হিসাবে খ্যাত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রবক্তা এবং বৃটিশদের কালো পতাকা প্রদর্শনকারী মাওলানা আরিফে রাব্বানীর কন্যাকে। তার শ্যালক খালেদ সাইফুল্লাহ এখন ময়মনসিংহের জনপ্রিয় আলেম। তাফাজ্জুল হকের ৫ ছেলের মধ্যে ৫ জনই প্রখ্যাত মাওলানা। তাদের মাঝে ৪ জন কোরআানে হাফেজ। ৪ কন্যার মধ্যে সবাই টাইটেল পাশ আলেমা। নাতী নাতনীদের প্রায় সবাই কোরআনে হাফেজ ও মাওলানা। বড় ছেলে-হাফেজ মাসরুরুল হক উমেদনগর মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক। ২য় ছেলে-হাফেজ তাসনিমুল হক মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের পরিচালক, ৩য় ছেলে- হাফেজ তাফহিমুল হক একজন মুহাদ্দিস, ৪র্থ ছেলে মাওলানা মামনুনুল হক মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক, ৫ ম ছেলে মাবরুরুল হক একজন মাওলানা। ৪ কন্যার সবাই মাদ্রাসার শিক্ষিকা।

৫ ভাইয়ের মধ্যে তাফাজ্জুল হক সবার বড়। ২য় ভাই লন্ডন প্রবাসী ইমদাদুল হক একজন শায়খুল হাদিস। ৩য় ভাই হাফেজ শামসুল হক সাদী একজন প্রখ্যাত মাওলানা। শামসুল হক সাদীর ২ ছেলে কোরআনে হাফেজ। ৪র্থ ভাই ডাক্তার সিরাজুল হক, আমেরিকা প্রবাসী, ৫ম ভাই হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক ওআইসি ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর। বিভিন্ন প্রয়োজনে আল্লামা তাফাজ্জুল হক লন্ডন আমেরিকা কানাডাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সফর করেন।

তিনি জীবনে ৩৮ বার পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন। তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা নেজাম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আলেম এখন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

নুরুল হেরা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। গরীব দুঃখীদের সাহায্যার্থে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খুদ্দামুদ্দিন সমিতি। এই সমিতি থেকে বিভিন্ন প্রকাশনাও বের করা হয়। তার ওয়াজ শুনার জন্য হাজার হাজার মানুষ এখনও নির্ঘুম রাত কাটান। জুমার খুৎবা শুনতে নুরুল হেরা মসজিদে প্রতি জুমাবারই প্রচুর মুসল্লীর সমাগম ঘটে। দেশে বিদেশে লক্ষাধিক ভক্তের এক বিশাল পরিবার নিয়ে তার সংসার। সপেদ লুঙ্গি আর পাঞ্জাবী, টুপি-ই তার প্রিয় পোষাক। সাধারণ মানুষের মতো চলতে ভালবাসেন আল্লামা তাফাজ্জুল হক।

এদিকে হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও দেশ বরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা তাফাজ্জুল হকের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি ও হবিগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র। তিনি মরহুমের মরদেহের পাশে কিছু সময় কাটান এবং বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের শোক
উপ মহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা তাফাজ্জুল হক এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর চৌধুরী। গতকাল সংবাদপত্রে প্রেরিত এক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

হাফেজ আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী

এমপি মজিদ খান এর শোক
উপমহাদেশের শীর্ষ হাদিস বিশারদ মাওলানা আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। সংবাদপত্রে প্রেরিত এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এমপি মিলাদ গাজীর শোক
উপমহাদেশের শীর্ষ হাদিস বিশারদ মাওলানা আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ। সংবাদপত্রে প্রেরিত এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জি কে গউছের শোক
হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা তাফাজ্জুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ। গতকাল রবিবার সংবাদ পত্রে প্রেরিত এক শোক বার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে তিনি মহান আল্লাহর দরবারের মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

জি কে গউছ বলেন- আল্লামা তাফাজ্জুল হক ছিলেন হবিগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট আলেম। ইসলাম প্রচারে এবং মানুষকে ধর্মের দিকে ধাবিত করতে তিনি অসামন্য অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন হবিগঞ্জের গর্ব, হবিগঞ্জের অহংকার। তিনি দেশে-বিদেশে ধর্মীয় পরিমন্ডলে হবিগঞ্জকে পরিচিত করেছেন। উনার কারণে আমরা হবিগঞ্জবাসী সম্মানীত হয়েছি। উনার মৃত্যুতে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে, এই শূণ্য স্থান পুরণ হওয়ার নয়। দোয়া করি মহান আল্লাহ উনার শ্রম ও প্রচেষ্টাকে কবুল করুক এবং জান্নাতবাসী করুক।

জেলা জামায়াতের শোক
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক (রঃ) এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব আব্দুর রহমান মাস্টার, জেলা নায়েবে আমীর কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমদ। শোক বাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন- ‘আল্লামা তাফাজ্জুল হক বাংলাদেশে কোরআন হাদিসের খেদমতে অনন্য সাধারণ অবদান রেখেছেন। তিনি বহু গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আমরা যা হারালাম তা পূরণ হবার নয়।’

শোকবাণীতে আল্লামা তাফাজ্জুল হক রহ.-এর জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করা হয় এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ইমাম সমিতির শোক
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক (রঃ) এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় ইমাম সমিতির হবিগঞ্জ জেলার শাখার নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওনালা আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ এমদাদুর রহমান প্রমুখ। এক শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শোক
এদিকে শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ তাফাজ্জুল হক মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শায়খ আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ি, সহ-সভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব আল্লামা নুর হোসাইন ক্বাসেমী, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাফিজ ফখরুজ্জামান।

নেতৃবৃন্দ এক শোববার্তায় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, রবিবার (০৫ জানুয়ারী) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ থেকে সিলেটে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা তাফাজ্জুল হক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি ৫ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাফাজ্জুল হক দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।গতকাল বিকাল ৫ টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com