শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
চুনারুঘাটে নদীর পাড়ে গাছ থেকে রক্তমাখা এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার অসহায় ৭০ জন পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন সৌদি প্রবাসী মুসা তালুকদার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ উপহার পৌঁছালো উপজেলা প্রশাসন আমরুড গরুর বাজার নিয়ে বিপাকে ইজারাদার লোকসানের আশংঙ্কা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হ্নদয়ের পরিবারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন ইউএনও বিকাশ অ্যাপে প্রতারণার পথ বন্ধ শায়েস্তাগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ওসির কঠোর এ্যাকশন গাজাসহ গ্রেফতার ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল কোরবানির গোশত ও চামড়া বিলি বণ্টনের নিয়ম অডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়িঁর পরিদর্শকের মেয়ে রুম্পার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়িঁর পরিদর্শকের মেয়ে ঢাকার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিহত শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বিজয়নগরে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের কবরের সামনেই বসে অঝোরে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা মোঃ রুকন উদ্দিন। রুম্পার মৃত্যুকে হত্যাকান্ড দাবী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান স্বজনরা। মেয়ের শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নাহিদা আক্তার পারুল। স্বজনরা তাকে সান্তনা দিয়েও কান্না থামাতে পারছেন না। দুদিন ধরে কিছুই খাননি। শারীরিকভাবে অসুস্থও হয়ে পড়েন। তিনি বারবার চিৎকার করে বলেন, জরুরী কাজের কথা বলে গেলো, ফিরলো লাশ হয়ে। আমার মেয়েকে কতো কষ্ট দিয়ে ওরা মেরেছে। মরার সময় মেয়েটা কতবার জানি, মা-মা বলে চিৎকার করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউনিভার্সটিতে ছাত্রছাত্রীদের শিফট আলাদা হওয়ায় দুদিন ধরে মেয়ের মনও খারাপ ছিল। তার সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কি না তা বলতে পারছি না। নাহিদা আক্তার পারুল বলেন, বুধবার সকালে ডিম ভাজি করে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি। এটাই যে শেষ খাওয়া কে জানতো? সন্ধ্যায় তার চাচাতো ভাই শুভর নিকট ব্যাগ-মোবাইল দিয়ে চলে যায়। বাসার দ্বিতীয় তলাও রুম্পা উঠেনি। এমন কী জরুরী কাজ ছিল? যার জন্য এতো দ্রুত ছুটে যায়। দিন-রাত অপেক্ষায় ছিলাম- এইতো মেয়ে ফিরবে-ফিরে আসবে। এলো লাশ হয়ে। আমার মেয়েকে কেন মেরে ফেললো, আমি বিচার চাই, বিচার চাই। গত বুধবার রাতে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রোড থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোর ৫টায় রুম্পার লাশ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের চরনিলীয়া ইউনিয়নের বিজয়নগরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বেলা ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদী রুবিলা খাতুনের কবরের পাশে তাকে দাপন করা হয়। গত শুক্রবার বিকালে বিজয়নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় রুম্পার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের কবরের সামনেই বসে অঝোরে কাঁদছেন নিহত রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন। স্বজনরা তাকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, যার যায় সেই বুঝে। আমি মেয়ে হারাইনি, আমি আমার সর্বস্ব হারিয়েছি। কত কষ্ট করে মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেছি। সামনে কত সুন্দর ভবিষ্যৎ পড়েছিল তার। অথচ তার আগেই মেয়েকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।
রুম্পার ফুফু চামেলী খাতুন জানান, কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা, জানি না। এভাবে একটা মেয়েকে মেরে ফেলবে? আমরা হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। রুম্পার বাবা মোঃ রুকন উদ্দিন হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের রুম্পা সবার বড়। রুম্পা ২০১৪ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, ২০১৬ সালে ভিকারুন্নেœসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। রুম্পা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ছোট ভাই আশরাফুল আলম রাজধানীর ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত। রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর সে বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরে নি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। গত বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com