শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বানিয়াচঙ্গে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা, লম্পট গ্রেফতার রাব্বী হত্যা \ কামাল গ্রেফতার \ পাচারকারীরা সক্রিয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় ৪ জনের করোনা পজিটিভ মাধবপুরে বজ্রপাতে চা শ্রমিকের মৃত্যু: স্ত্রী আহত মাধবপুরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, মা ছেলে গ্রেপ্তার মাধবপুরে বেসরকারি হাসপাতালে ডিসিনফেকশন চেম্বার স্থাপন বাহুবলে গরুর ধান খাওয়া নিয়ে ৯ গ্রামের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত শতাধিক চুনারুঘাটে খুনি কামাল,র ফাঁসি ও বাকিদের গ্রেফতারের দাবিতে মাদক বিরোধী শক্তি সংগঠনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সাকিব আল হাসানের অর্থায়নে হবিগঞ্জে ৪শ পরিবার পেল খাদ্য সামগ্রী চুনারুঘাটে রাব্বি হত্যার আসামি শ্রীমঙ্গলের ভারত সীমান্ত থেকে গ্রেফতার

নবীগঞ্জে পাহাড়ের পাদদেশে চাষ হচ্ছে ড্রাগন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৪ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত দিনারপুরে মাটি ও আবহাওয়া চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বহুগুণ সমৃদ্ধ বিদেশি ফল ড্রাগন ফল চাষ। এরই মাঝে ড্রাগন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন মশিউর রহমান নামের এক চাষী।

আর এতে এলাকায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। বাজারে ফলের ভাল দাম ও চাহিদা থাকায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ। আর অল্প সময়েই অল্প পুঁজিতে ড্রাগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে কৃষি অধিদপ্তর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত দিনারপুর পরগনার পানিউমদা গ্রামের ভিতের অনেক উচু নিচু পথ ফেরিয়ে ববানি চা বাগান এর অবস্থান। আর পাহাড়ের পাদদেশে এই চা বাগানে একাংশেই প্রায় ১ একর জমিতে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগানের মালিক মশিউর রহমান। এখন এলাকার অনেকেই এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ড্রাগন ফল সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ আগে তেমন পরিচিত ছিলেন না। বেশ কয়েক বছর আগেও বিদেশ থেকে ড্রাগন ফল আমদানি করা হতো। দেশের বড়ো বড়ো সুপারশপগুলোতে উচ্চদামে ড্রাগন ফল বিক্রি হতো। দেশের বেশ কিছু উৎসাহী ব্যক্তি থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। এতে তারা সফল হয়। ২০১০ সালের দিকে এদেশে সর্বপ্রথম ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ হচ্ছে।

সূত্র বলছে- ডায়াবেটিস ও খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ড্রাগন। এতে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম শক্তি বাড়াতে ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ক্যারোটিন থাকায় স্মৃতি শক্তি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। ভিটামিন বি-২ থাকায় ক্ষুধা বাড়ায় ও স্বাভাবিক কর্মপন্থা উন্নত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। এ ফলে বি সিটোস্টরেল থাকায় হাইপার টেনশন কমায়।

ত্বকের মসৃণতা ও আর্দ্রতা ধরে রাখে। ভিটামিন বি-৩ থাকায় শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, খারাপ কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপ কমায়। রক্তের শিরা প্রশন্ত করে ও মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। এটি ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন হলেও সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে এই ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। এছাড়া ড্রাগনের সাদা শাঁসের রস প্রসাধন গুণের আঁধার।

নবীগঞ্জের ববান ড্রাগন বাগানের ম্যানাজার বিনয় চন্দ্র ভর্মন জানান, বাগানের মালিক মশিউর রহমানের উদ্যোগে প্রায় ১ বছর আগে চা বাগানের ১ একর জমিতে শুরু করেন ড্রাগন চাষের কর্মপরিকল্পনা। প্রথমে সিমেন্ট দিয়ে প্রায় ৫০০ টি পিলার তৈরী করেন। পরে গর্ত করে ওই স্থানে পিলার গুলোকে দাঁড় করিয়ে ১টি পিলারের চারিপাশে চারটি করে ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। এ ভাবে প্রায় ২ হাজার চারা রোপণ করেন। এতে পরিচর্যাসহ সব মিলিয়ে ব্যয় হয় প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। প্রথম মৌসুমেই দেড় লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এখন পরিচর্যা ছাড়া কোন ব্যয় নেই, শুধু আয়ের পালা। কোন ব্যয় ছাড়া সামনে আরো ৩ গুণ বেশি ফল বিক্রি করে টাকা আয়ের আশা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম মাকসুদুল আলম জানান, রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম বিধায় ড্রাগন ফল চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। নবীগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি ড্রাগনের বাগান তৈরী হয়েছে। এই ড্রাগন বাগানগুলো দেখে কৃষকরা ফলটি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন প্রায়ই চারার জন্য যোগাযোগ করছেন। এই চারা রোপণ করলে সহজে মারা যায় না। কেউ বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসের পরার্মশ নিতে বলেন তিনি।

সম্প্রতি ববান বাগান পরির্দশনে আসেন কৃষি অধিদপ্তর, সিলেট কৃষি তথ্য সার্ভিস ও নবীগঞ্জ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন খাঁন বলেন, আমাদের দেশে ড্রাগন ফল সম্ভাবনাময় একটি ফল। ফলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। ফলটিতে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন-সি আছে। ক্যান্সারসহ অনেক জটিল রোগের প্রতিরোধক হিসেবে ড্রাগন ফলটি কাজ করে। ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন- গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখবে ড্রাগন এবং অনেক কম শ্রমে বিদেশি ফলটি চাষ করা যায়। অন্য ফসলের তুলনায় এই ফল চাষে ব্যায় কম আয় বেশি।

সংশ্লিষ্টদের মতে- শিক্ষিত বেকাররা চাকরির পেছনে না ছুটে বসতবাড়ির আশপাশে ড্রাগন ফল চাষ করে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়ের পথ সুগম হবে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব জমিপূর্ণ সূর্যলোক পায়। বর্ষায় পানি উঠে না বা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে না- এমন স্থানে ড্রাগন ফলের চাষ করা সহজ। বাগান করার মাত্র নয় মাসের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এক একটি ফলের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তবে ৪/৫ বছরের একটির পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে এক কেজি পর্যন্ত ওজনের ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে বছরে ৮০ কেজি পর্যন্ত ফলন হতে পারে।
সৌজন্যেঃ আজকের সিলেট

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com