শনিবার, ২২ জুন ২০১৯, ০২:১৭ অপরাহ্ন

প্রশাসনের সহযোগীতায় বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৬ষ্ঠ শ্রেনীর  ছাত্রী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯
  • ২৮ বার পঠিত

নুর উদ্দিন সুমন ॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক বাল্য বিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিলাস বহুল বিউটি পার্লার থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার দুই মামাকে খোঁজছে পুলিশ। এ নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় চলছে। ৯ জুন রবিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার রাণীগাও ইউনিয়নের গাভীগাও গ্রামের বজলুর রহমান ভূইয়ার কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি (১২) চাটপাড়া আইডিয়াল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। বৃষ্টির মা নার্গিস বেগম জীবিকার তাগিদে লেবাননে থাকার সুবাদে লেখাপড়া করার জন্য একই ইউনিয়নের কালিয়াগাও গ্রামে তার মামা আহম্মদ আলীর বাড়িতে অবস্থান করে আসছিল বৃষ্টি। সম্প্রতি তার মামা আহম্মদ আলী ও মমিন আলী ঢাকা হাজারীবাগ এলাকার ব্যবসায়ী আবজাল মিয়া (৪০) এর সাথে তার বিয়ে ঠিক করেন।
এ দিকে বৃষ্টিকে বিয়ের জন্য তারা চাপ দিতে থাকে এতে বৃষ্টি অপরাগতা প্রকাশ করে। দুই মামা কৌশলে রবিবার জোহরের নামাজের পর গোপনে আবজালের সাথে বিয়ের দিন ধার্য্য করেন। বাড়িতে রান্না-বান্না চলে দুপুর ১১টায় বাড়ির মহিলাদেরকে দিয়ে সিএনজি যোগে বৃষ্টিকে চুনারুঘাট মধ্যবাজারে বিলাসবহুল একটি বিউটি পার্লারে সাজ-গোজ করার জন্য পাঠানো হলে খবরটি বৃষ্টির পিতা বজলুর রহমানের কাছে পৌছে। পরে বজলুর রহমান স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বী দিয়ে বিউটি পার্লার থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ সময় তার সাথে আসা মহিলারা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে বৃষ্টিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে বৃষ্টিকে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহমিদা ইয়াসমিনের নিকট রাখা হয়। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হবিগঞ্জ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন তার নির্দেশে বৃষ্টিকে তার পিতার জিম্মায় দেয়া হয়। এবং তার দুই মামাকে আটক করার জন্য চুনারুঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপর একটি সুত্র জানায়, ঢাকার বর আবজল একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বিয়ে করে বৃষ্টিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাণীগাও পৌছলে অবস্থা বেগতিক দেখে গাড়ি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ইউএনও মঈন উদ্দিন ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাল্য বিয়েটি পন্ড করা হয়েছে এবং বৃষ্টিকে তার পিতার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই মামার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 Prothomsheba
Theme Developed BY ThemesBazar.Com